কিশোর অপরাধ ও বেকারত্ব দূরীকরণের উপায়সমূহ

বাংলাদেশে কিশোর অপরাধ ও বেকারত্ব দূরীকরণের উপায়সমূহ আলোচনা করো।

ভূমিকাঃ বাংলাদেশে কিশোর অপরাধ এবং বেকারত্ব দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যা। কিশোর অপরাধের পেছনে পারিবারিক, সামাজিক, এবং অর্থনৈতিক কারণ কাজ করে, যা তরুণদের অপরাধের দিকে ঠেলে দেয়। অন্যদিকে, বেকারত্বের ফলে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারছে না। কিশোর অপরাধ এবং বেকারত্ব দূরীকরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। 

কিশোর অপরাধ বলতে বুঝায় এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড যা ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু বা কিশোরদের দ্বারা সংঘটিত হয়। এটি আইনত এবং সামাজিকভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও, কিশোর অপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া সাধারণ অপরাধীদের তুলনায় ভিন্নভাবে পরিচালিত হয়। বাংলাদেশে কিশোর অপরাধ একটি ক্রমবর্ধমান সামাজিক সমস্যা, যা বিভিন্ন সামাজিক, অর্থনৈতিক, এবং পারিবারিক কারণের ভিত্তিতে সংঘটিত হয়।

কিশোর অপরাধ দূরীকরণের উপায়সমূহ

১. সুশিক্ষা নিশ্চিতকরণঃ কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। নৈতিক শিক্ষা এবং কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে কিশোরদের সঠিক পথে পরিচালিত করা সম্ভব।

২. পরিবারের ভূমিকাঃ পরিবারের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং ভালো পরিবেশ কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে। বাবা-মায়ের মনোযোগ ও সহমর্মিতা অপরিহার্য।

৩. সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিঃ কিশোর অপরাধ কমাতে সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। কমিউনিটি প্রোগ্রাম, ওয়ার্কশপ এবং ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানো যেতে পারে।

৪. মাদক নির্মূলঃ মাদক কিশোর অপরাধের একটি প্রধান কারণ। মাদকদ্রব্য সহজলভ্যতা রোধ এবং কিশোরদের মাদক থেকে দূরে রাখতে প্রচারণা চালানো প্রয়োজন।

৫. মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানঃ কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় কাউন্সেলিং সেবা প্রদান করা জরুরি। স্কুল এবং কলেজে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন করা যেতে পারে।

৬. কিশোর পুনর্বাসন কেন্দ্রঃ অপরাধে জড়িয়ে পড়া কিশোরদের পুনর্বাসনের জন্য বিশেষ কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে, যেখানে তাদের উন্নত জীবনযাপনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

৭. বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টিঃ কিশোরদের জন্য খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, এবং সৃজনশীল কার্যক্রমের ব্যবস্থা করতে হবে। এটি তাদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করবে।

৮. আইন প্রয়োগের উন্নয়নঃ কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে মানবাধিকার বজায় রাখতে হবে।

বেকারত্ব দূরীকরণের উপায়সমূহ

৯. কারিগরি শিক্ষা বিস্তারঃ বেকারত্ব দূর করতে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। এর মাধ্যমে তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।

১০. উদ্যোক্তা তৈরিঃ তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য উৎসাহিত করতে হবে। সহজ শর্তে ঋণ প্রদান এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

১১. কর্মসংস্থান তৈরিঃ দেশের শিল্প ও কৃষি খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে। এটি বেকারত্ব কমাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

১২. বিনিয়োগ বৃদ্ধিঃ দেশে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হবে। বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি হবে।

১৩. ফ্রিল্যান্সিং এবং আইটি সেক্টরে প্রশিক্ষণঃ আইটি এবং ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে প্রশিক্ষণ প্রদান করে তরুণদের গ্লোবাল মার্কেটে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

১৪. স্বল্পমেয়াদী কাজের সুযোগঃ কৃষি, নির্মাণ এবং অন্যান্য খাতে স্বল্পমেয়াদী কাজের ব্যবস্থা করা হলে তা বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়ক হবে।

১৫. সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বঃ সরকারি এবং বেসরকারি খাতের মধ্যে অংশীদারিত্ব বাড়িয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নিতে হবে। বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি তরুণদের চাকরির সুযোগ বাড়াবে।

১৬. উন্নততর শ্রমবাজার নীতিঃ শ্রমবাজারের নীতি সংস্কার করে কাজের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। দক্ষতা অনুযায়ী কাজের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।

উপসংহারঃ বাংলাদেশে কিশোর অপরাধ এবং বেকারত্ব দূরীকরণ একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এই সমস্যাগুলোর সমাধানের জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ, পরিবারের ভূমিকা, এবং সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। উপরোক্ত কাজের মাধ্যমে কিশোর অপরাধ এবং বেকারত্ব দূর করে একটি সমৃদ্ধ, নিরাপদ, এবং উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

Sima Khatun
Sima Khatun

আমি সিমা খাতুন। আমি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স
কমপ্লিট করেছি। ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে আমার অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমি শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য সহজভাবে শেখাতে কাজ করি। শিক্ষার্থীদের সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোই আমার লক্ষ্য।

Articles: 128