Oedipus Rex Bangla Summary and Analysis
Brief Biography of Sophocles

সোফোক্লিস (Sophocles) ছিলেন প্রাচীন গ্রিসের অন্যতম প্রধান নাট্যকার, যার জন্ম খ্রিষ্টপূর্ব ৪৯৬ সালে এথেন্সের কাছে কলোনাসে। তিনি প্রাচীন গ্রিক ট্র্যাজেডির তিন মহান লেখকের একজন, অন্য দুজন ছিলেন এস্কাইলাস এবং ইউরিপিদিস। সোফোক্লিস প্রায় ১২৩টি নাটক রচনা করেছিলেন, যার মধ্যে মাত্র ৭টি সম্পূর্ণ আকারে টিকে আছে। তাঁর বিখ্যাত রচনাগুলোর মধ্যে রয়েছে “ইডিপাস রেক্স” (Oedipus Rex), “অ্যান্টিগনি” (Antigone) এবং “ইডিপাস অ্যাট কলোনাস” (Oedipus at Colonus)।
সোফোক্লিসের নাটকে মানবিক সমস্যাগুলোর গভীর বিশ্লেষণ এবং দেবতাদের সাথে মানুষের সম্পর্ককে দক্ষতার সঙ্গে চিত্রিত করা হয়েছে। তিনি ট্র্যাজেডির গঠনগত পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন, যেমন চরিত্র বৃদ্ধির মাধ্যমে কাহিনির জটিলতা বৃদ্ধি করা। তাঁর নাটকগুলোতে নৈতিক দ্বন্দ্ব এবং মানবিক দুর্বলতা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
আরো পড়ুনঃ Riders to the Sea Bangla Summary and Analysis
সোফোক্লিস তার জীবদ্দশায় অসংখ্য নাট্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেন এবং প্রায়শই বিজয়ী হন। খ্রিষ্টপূর্ব ৪০৬ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন, তবে তার রচনাগুলো প্রাচীন নাট্যধারার একটি মাইলফলক হিসেবে আজও প্রসিদ্ধ।
Historical Context of Oedipus Rex
“ইডিপাস রেক্স” (Oedipus Rex) বা “রাজা ইডিপাস” প্রাচীন গ্রিসের নাট্য সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ট্র্যাজেডি, যা সোফোক্লিস রচনা করেছিলেন খ্রিষ্টপূর্ব ৪২৯ সালের দিকে। এটি প্রাচীন গ্রিসের ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটকে গভীরভাবে প্রতিফলিত করে।
১. প্রাচীন গ্রিসের ধর্মীয় বিশ্বাস: গ্রিক সমাজে দেবতাদের প্রতি অগাধ বিশ্বাস ছিল এবং তারা মনে করত যে দেবতারা মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করেন। “ইডিপাস রেক্স”-এ ভবিষ্যদ্বাণী এবং ভাগ্যের অমোঘতাকে নাটকের কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে মানুষ ও দেবতাদের মধ্যকার সম্পর্ক এবং মানবিক নিয়তির উপর দেবতাদের ক্ষমতার প্রতিফলন দেখা যায়।
২. থেবসের প্লেগ এবং রাজনৈতিক সংকট: নাটকের প্রাথমিক দৃশ্যে থেবস নগরে প্লেগ দেখা দেয়, যা সমসাময়িক দর্শকদের জন্য বাস্তবধর্মী একটি চিত্র ছিল। সোফোক্লিস সম্ভবত এথেন্সে প্লেগের সময় এই নাটক রচনা করেন, যা তৎকালীন জনগণের ভোগান্তি এবং দেবতাদের উপর বিশ্বাসের প্রতি তাদের নির্ভরশীলতাকে প্রতিফলিত করে।
৩. গণতন্ত্রের প্রভাব: গ্রিক নাট্যধারা এথেন্সের গণতন্ত্রের উত্থানের সময় বিকশিত হয়েছিল। যদিও “ইডিপাস রেক্স”-এর থেবস একটি রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র, নাটকটি নেতাদের নৈতিক দায়িত্ব এবং জনগণের প্রতি তাদের কর্তব্য সম্পর্কে প্রশ্ন তোলে, যা এথেন্সের গণতান্ত্রিক চিন্তাধারার সাথে সংগতিপূর্ণ।
আরো পড়ুনঃ Arms and the Man Bangla Summary and Analysis
৪. পেরিক্লেসের স্বর্ণযুগ: সোফোক্লিস পেরিক্লেসের শাসনকালে নাটকটি রচনা করেছিলেন, যা এথেন্সের শিল্প, সাহিত্য, এবং নাটকের সোনালী যুগ হিসেবে পরিচিত। এই সময়ে নাটক ছিল ধর্মীয় এবং সামাজিক অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা গ্রিক দেবতা ডায়নাইসাসের সম্মানে মঞ্চস্থ হতো।
৫. ভাগ্যের বিরুদ্ধে মানুষের সংগ্রাম: প্রাচীন গ্রিসে ফেটালিজম বা ভাগ্য নির্ধারণের ধারণা অত্যন্ত প্রচলিত ছিল। “ইডিপাস রেক্স”-এ ইডিপাসের চরিত্র ভাগ্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং মানবিক দুর্বলতার গভীর চিত্র তুলে ধরে, যা তৎকালীন দর্শকদের জন্য একটি মর্মস্পর্শী শিক্ষা।
এই প্রেক্ষাপট নাটকটির গভীরতা এবং মহত্ত্ব বৃদ্ধি করে, যা একে একটি কালজয়ী সাহিত্যকর্মে পরিণত করেছে।
Key Facts about Oedipus Rex
- Full Title: Oedipus Rex (or Oedipus the King)
- When Written: circa 429 B.C.E.
- Where Written: Athens, Greece
- When Published: circa 429 B.C.E.
- Literary Period: Classical
- Genre: Tragic drama
- Setting: The royal house of Thebes
- Climax: When Oedipus gouges out his eyes
- Antagonist: Tiresias; Creon
Oedipus Rex Characters
ইডিপাস: ইডিপাস থেবসের রাজা, যিনি স্ফিঙ্ক্সের ধাঁধার সমাধান করে সিংহাসনে বসেন। তার তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাকে সফল এবং জনপ্রিয় নেতা করে তোলে।
ক্রেয়ন: জোকাস্টার ভাই এবং ইডিপাসের শালা। ক্রেয়ন একজন কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চরিত্র, যিনি ইডিপাসের মতো খোলাখুলি কথা বলেন না। ইডিপাস যখন ক্রেয়নকে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অভিযুক্ত করেন, তখন ক্রেয়ন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
টায়ারেসিয়াস: অন্ধ নবী বা দ্রষ্টা। টায়ারেসিয়াস জানেন যে ইডিপাসের ভবিষ্যদ্বাণী ইতিমধ্যেই সত্য হয়েছে। কিন্তু তিনি এটি প্রকাশ করতে চান না। ইডিপাস তাকে ষড়যন্ত্রে জড়িত বলার পর তিনি সত্য প্রকাশ করতে বাধ্য হন।
জোকাস্টা: ইডিপাসের স্ত্রী এবং মা। নাটকের শুরুতে জোকাস্টা ভবিষ্যদ্বাণীতে বিশ্বাস করেন না। তিনি ইডিপাসকে টায়ারেসিয়াসের কথায় গুরুত্ব না দিতে বোঝান। তবে নাটক এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে সত্য প্রকাশ পেতে শুরু করে।
কোরাস (The Chorus): থেবসের প্রবীণ নাগরিকদের প্রতিনিধিত্ব করে। কোরাস নাটকের ঘটনাগুলোর ওপর প্রতিক্রিয়া জানায়, কখনো একক কণ্ঠে, কখনো তার নেতা হিসেবে।
আরো পড়ুনঃ As You Like It Bangla Summary and Analysis
একজন বার্তাবাহক (Messenger): করিন্থ থেকে আসা বার্তাবাহক ইডিপাসকে জানান যে করিন্থের রাজা পলিবাস এবং রানি মেরোপে তার প্রকৃত বাবা-মা নন। এই বার্তাবাহকই শিশু ইডিপাসকে করিন্থের রাজা-রানির কাছে দিয়ে এসেছিলেন।
একজন রাখাল (Shepherd): রাজা লাইয়াসের প্রাক্তন দাস, যিনি শিশু ইডিপাসকে মেরে ফেলার নির্দেশ পান। কিন্তু তিনি দয়া করে শিশুটিকে বাঁচিয়ে দেন। রাখাল রাজা লাইয়াসের মৃত্যুর সাক্ষী ছিলেন এবং ইডিপাসের প্রশ্নের উত্তরে সত্য প্রকাশ করেন।
একজন পুরোহিত: থেবসের দুর্ভোগের কথা জানাতে এবং ইডিপাসকে সাহায্যের জন্য অনুরোধ জানাতে আসে।
অ্যান্টিগনি: ইডিপাসের মেয়ে এবং সৎ-বোন। নাটকের শেষে তার বাবাকে বিদায় জানাতে উপস্থিত হয়।
ইস্মিন: ইডিপাসের মেয়ে এবং সৎ-বোন। অ্যান্টিগনির মতো ইস্মিনও নাটকের শেষে উপস্থিত হয়।
Oedipus Rex Themes
১. ভাগ্য বনাম ইচ্ছাশক্তি (Fate vs. Free Will): প্রাচীন গ্রিকদের বিশ্বাস ছিল দেবতারা ভবিষ্যৎ দেখতে পারেন এবং কিছু লোক সেই তথ্য লাভ করতে পারে। টায়ারেসিয়াসের মতো নবী এবং ডেলফির অরাকল ভবিষ্যদ্বাণী প্রদান করতেন। নাটকে ইডিপাসের জীবনে দেখা যায় যে ভাগ্যের অমোঘতা এবং ব্যক্তির ইচ্ছাশক্তি কীভাবে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। যদিও ইডিপাস তার নিজের কাজের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটনে দৃঢ়, ভবিষ্যদ্বাণী থেকে সে পালাতে পারে না।
২. অপরাধ ও লজ্জা (Guilt and Shame): নাটক শুরু হয় ডেলফির অরাকলের ঘোষণার মাধ্যমে যে থেবস নগরী দুর্ভোগে পড়েছে কারণ রাজা লাইয়াসের হত্যাকারী বিচার পায়নি। ইডিপাস নিজেকে দায়ী ব্যক্তি খুঁজে বের করার দায়িত্বে নিয়োজিত করে। নাটকের মূল কেন্দ্রে রয়েছে আইনের অপরাধ এবং তার চেয়ে গভীরভাবে লজ্জা ও অনুশোচনা—নিজের অজান্তে ভয়াবহ কাজ সম্পন্ন করার জন্য।
৩. দৃষ্টি বনাম অন্ধত্ব (Sight vs. Blindness): ইডিপাস ঘোষণা করে যে সে সব রহস্য উদঘাটন করবে এবং আলোকিত করবে। তার বুদ্ধিমত্তা তাকে স্ফিঙ্ক্সের ধাঁধার সমাধান করতে সাহায্য করেছে এবং তাকে মহান রাজায় পরিণত করেছে। কিন্তু তার নিজের জীবনের সত্য সম্পর্কে সে “অন্ধ”। বিপরীতে, অন্ধ নবী টায়ারেসিয়াসই ইডিপাসের অজ্ঞানতাকে চিহ্নিত করে এবং সত্য উদ্ঘাটনের সূচনা করে।
৪. সত্য উদঘাটন (Finding Out the Truth): ইডিপাসের জীবনের বিভীষিকাময় কাজগুলো নাটকের শুরু হওয়ার বহু আগে সংঘটিত হয়। লাইয়াসের মৃত্যু এবং ইডিপাসের সঙ্গে জোকাস্টার বিয়ে ইতিমধ্যে ঘটে গেছে। কিন্তু থেবসের মহামারী এবং অরাকলের আদেশ ইডিপাসকে সত্য উদঘাটনে বাধ্য করে। তার নিজের সন্তান, রাজ্য এবং জীবন ধ্বংস হলেও, ইডিপাস সত্য জানার জন্য অবিচল থাকে।
৫. কর্ম বনাম চিন্তা (Action vs. Reflection): ইডিপাস একজন সক্রিয় চরিত্র, যিনি দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন এবং দ্রুত কাজ করেন। যখন পুরোহিতেরা তার কাছে সাহায্যের জন্য আসেন, তখন তিনি ইতিমধ্যেই ক্রেয়নকে ডেলফির অরাকলের কাছে পাঠিয়েছেন। কিন্তু তার অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণই তার পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই থিম এথেন্সের নেতাদের মধ্যে কর্মক্ষমতা ও আত্মমূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে তুলে ধরে।
Oedipus Rex Bangla Summary
সোফোক্লিস রচিত “ইডিপাস রেক্স” প্রাচীন গ্রিক নাটকের এক অমর সৃষ্টি। এই ট্র্যাজেডি থেবসের রাজা ইডিপাসের জীবনের করুণ পরিণতি এবং তার অজানা পাপের ভয়াবহ উদ্ঘাটনের গল্প বলে। নাটকটি ভাগ্য, মানব দুর্বলতা, এবং সত্য অনুসন্ধানের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
প্লেগে আক্রান্ত থেবস ও ইডিপাসের প্রতিশ্রুতি: নাটকের শুরুতে থেবস নগরী এক ভয়াবহ প্লেগে আক্রান্ত। মানুষ মারা যাচ্ছে, ফসল ফলছে না, গবাদি পশু মারা যাচ্ছে, এবং মহিলারা মৃত সন্তান প্রসব করছে। শহরের পুরোহিত এবং নাগরিকেরা রাজপ্রাসাদের সামনে জড়ো হয় এবং রাজা ইডিপাসকে এই সমস্যার সমাধান করতে অনুরোধ করে। ইডিপাস তাদের আশ্বস্ত করে জানান যে তিনি ইতিমধ্যেই তার শালা ক্রেয়নকে ডেলফিক অরাকলে পাঠিয়েছেন এই মহামারীর কারণ এবং প্রতিকার জানার জন্য।
ক্রেয়ন ফিরে আসেন এবং জানান যে অরাকলের নির্দেশ অনুযায়ী, থেবসের পূর্ববর্তী রাজা লায়াসের হত্যাকারীকে খুঁজে বের করে শাস্তি না দেওয়া পর্যন্ত এই মহামারী শেষ হবে না। হত্যাকারী থেবসেই অবস্থান করছে, এবং তাকে বের করে নগর থেকে নির্বাসিত করতে হবে।
আরো পড়ুনঃ NU 2nd Year
ইডিপাসের সংকল্প এবং তদন্ত শুরু: ইডিপাস মহামারী সমাধানের জন্য সংকল্পবদ্ধ হন। তিনি ঘোষণা করেন যে লায়াসের হত্যাকারীকে খুঁজে বের করতে তিনি সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন। জনগণকে তিনি আদেশ দেন, কেউ যদি হত্যার বিষয়ে কিছু জানে, তবে তা জানাতে হবে। যারা সত্য লুকাবে, তাদের শাস্তি হবে নগর থেকে নির্বাসন।
ইডিপাস তদন্তের অংশ হিসেবে থেবসের অন্ধ গণক টায়ারেসিয়াসকে ডেকে পাঠান। টায়ারেসিয়াস প্রথমে কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান। ইডিপাস ক্রুদ্ধ হয়ে টায়ারেসিয়াসকে অপমান করেন এবং ক্রেয়নের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ আনেন। ক্রোধে টায়ারেসিয়াস বলেন, “লায়াসের হত্যাকারী আর কেউ নয়, বরং ইডিপাস নিজেই।” টায়ারেসিয়াস আরও বলেন, ইডিপাস তার নিজের মাকে বিয়ে করেছেন এবং নিজের সন্তানদের ভাইও হয়েছেন। ইডিপাস টায়ারেসিয়াসের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেন এবং তাকে প্রাসাদ থেকে তাড়িয়ে দেন।
জোকাস্টার আশ্বাস এবং ইডিপাসের সন্দেহ: ইডিপাসের স্ত্রী এবং রানি জোকাস্টা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যদ্রষ্টাদের কথা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই। উদাহরণ হিসেবে জোকাস্টা বলেন, লায়াস এবং তার সন্তানের বিষয়ে একটি পুরনো ভবিষ্যদ্বাণী ছিল যে তাদের সন্তান একদিন তার বাবাকে হত্যা করবে এবং মাকে বিয়ে করবে। ভবিষ্যদ্বাণীটি এড়ানোর জন্য তারা শিশুটিকে পাহাড়ে ফেলে দিয়ে এসেছিলেন। পরে ডাকাতদের হাতে লায়াসের মৃত্যু হয়েছিল বলে তিনি মনে করেন।
তবে, জোকাস্টা যখন উল্লেখ করেন যে লায়াস একটি ত্রিমুখী সড়কে নিহত হয়েছিলেন, তখন ইডিপাসের মনে সন্দেহ জাগে। তিনি স্মরণ করেন যে, একবার ত্রিমুখী সড়কে কিছু লোকের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়েছিল এবং তিনি তাদের হত্যা করেছিলেন। ইডিপাস এই ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে লায়াসের মৃত্যুর একমাত্র জীবিত সাক্ষীকে ডেকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন।
ইডিপাসের অতীত এবং তার পরিচয় উদ্ঘাটন: একজন বার্তাবাহক করিন্থ থেকে এসে ইডিপাসকে জানায় যে তার পালক পিতা, করিন্থের রাজা পলিবাস, বার্ধক্যের কারণে মারা গেছেন। ইডিপাস মনে করেন যে এই সংবাদ তার ভবিষ্যদ্বাণী মিথ্যা প্রমাণ করেছে। কিন্তু তিনি এখনো শঙ্কিত ছিলেন যে তার মায়ের সঙ্গে ভবিষ্যদ্বাণীটি সত্য হতে পারে।
বার্তাবাহক তাকে আশ্বস্ত করেন এবং জানান যে পলিবাস এবং তার স্ত্রী মেরোপে আসলে ইডিপাসের প্রকৃত পিতা-মাতা নন। বার্তাবাহক আরও বলেন যে একজন শেফার্ড ইডিপাসকে শিশুকালে তাকে তুলে দেন এবং তিনি ইডিপাসকে করিন্থের রাজপরিবারে নিয়ে আসেন।
এই সত্য শুনে জোকাস্টা ঘটনাগুলো বুঝতে পারেন এবং ইডিপাসকে নিজের জন্মপরিচয় খোঁজা বন্ধ করতে অনুরোধ করেন। কিন্তু ইডিপাস জোকাস্টার কথায় কর্ণপাত না করে শেফার্ডকে ডেকে পাঠান।
শেফার্ডের স্বীকারোক্তি এবং ভয়াবহ সত্য প্রকাশ: শেফার্ড শুরুতে সত্য বলার জন্য অনিচ্ছুক ছিলেন। কিন্তু ইডিপাস তাকে শাস্তির ভয় দেখান। অবশেষে শেফার্ড স্বীকার করেন যে ইডিপাসই লায়াস এবং জোকাস্টার সন্তান। ভবিষ্যদ্বাণী এড়ানোর জন্য শিশুটিকে হত্যা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেফার্ড দয়া করে শিশুটিকে পাহাড়ে ফেলে দিয়ে চলে যান। পরে বার্তাবাহক শিশুটিকে উদ্ধার করেন এবং করিন্থের রাজপরিবারে নিয়ে যান।
আরো পড়ুনঃ A Tale of Two Cities Bangla Summary and Analysis
এই সত্য উদ্ঘাটন ইডিপাসকে ভেঙে ফেলে। তিনি উপলব্ধি করেন যে তিনি তার বাবাকে হত্যা করেছেন এবং নিজের মাকে বিয়ে করেছেন। এতে লায়াসের হত্যাকারীর পরিচয়ও প্রকাশিত হয়।
জোকাস্টার আত্মহত্যা এবং ইডিপাসের শাস্তি: এই ভয়াবহ সত্য জানতে পেরে জোকাস্টা ভীষণ শোকে আত্মহত্যা করেন। ইডিপাস, শোক এবং অনুশোচনায় পাগলপ্রায় হয়ে, নিজের চোখ দুটি একটি আলপিন দিয়ে অন্ধ করে ফেলেন। তিনি থেবস থেকে নির্বাসনের জন্য ক্রেয়নকে অনুরোধ করেন।
ইডিপাসের নির্বাসন এবং কোরাসের উপদেশ: নাটকের শেষ অংশে ইডিপাস নির্বাসনে চলে যান। থেবসের নতুন রাজা ক্রেয়ন অরাকলের নির্দেশ অনুযায়ী ইডিপাসকে নগর থেকে বিতাড়িত করেন।
শেষে কোরাস বলে যে, “কোনো মানুষই প্রকৃত সুখী নয় যতক্ষণ না তার জীবন শান্তি ও সম্মানের সঙ্গে শেষ হয়।” এই উপদেশ নাটকের মূল বার্তাকে তুলে ধরে—মানুষের ভাগ্য অমোঘ, এবং সত্য জানার জন্য মরিয়া হওয়ার ফলশ্রুতি সবসময় সুখকর হয় না।
“ইডিপাস রেক্স” নাটকটি প্রাচীন গ্রিক নাট্যধারার একটি চমৎকার উদাহরণ। এটি মানব জীবনের দুর্বলতা, ভবিষ্যদ্বাণীর অমোঘতা এবং সত্য অনুসন্ধানের গুরুত্বকে তুলে ধরে। ইডিপাসের ট্র্যাজেডি পাঠকদের মনে করে দেয় যে ভাগ্য এবং ইচ্ছাশক্তির মধ্যে সংঘাত চিরকালীন, এবং আমাদের কর্মফল থেকে মুক্তি সম্ভব নয়।
সোফোক্লিসের এই নাটকটি আজও নাট্যশিল্পে এক অনন্য অবস্থান ধরে রেখেছে এবং এর শিক্ষণীয় দিকগুলো সব যুগের জন্য প্রাসঙ্গিক।